অর্থনীতি – ২য়
ক বিভাগ প্রশ্ন উত্তর
1.
দারিদ্র কি ?
বেঁচে থাকার জন্য আবশ্যকীয় মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য সম্পদ বা আয়ের অপর্যাপ্ততাকে বোঝায়।
2. ছদ্মবেশী বেকারত্ব কি ?
যেখানে কিছু শ্রমিক কাজ করছে বলে মনে হয়, কিন্তু তাদের অবদান উৎপাদনশীলতায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে
না। অর্থাৎ, তাদের কাজ থেকে বাদ দিলেও
মোট উৎপাদনের পরিমাণ কমে না।
3. শূন্য জনসংখ্যা বিদ্দি কি ?
শূন্য
জনসংখ্যা বৃদ্ধি হলো যখন জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান থাকায় মোট জনসংখ্যা অপরিবর্তিত
থাকে।
4. অবাধ বাণিজ্য কি ?
অবাধ বাণিজ্য
হলো রাষ্ট্রীয় কর, কোটা বা বাধা ছাড়া দেশগুলোর মধ্যে পণ্য ও সেবার মুক্ত লেনদেন।
5. উন্নয়ন পরিকল্পনা কি ?
উন্নয়ন
পরিকল্পনা হলো দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও
কৌশলসম্বলিত পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি।
6. মুদ্রা কি ?
মুদ্রা হলো
এমন বিনিময় মাধ্যম যা দ্বারা পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ ও লেনদেন করা যায়।
7. প্রান্তিক কৃষক কাকে বলে ?
প্রান্তিক
কৃষক হলো সেই কৃষক যিনি খুব অল্প জমিতে (সাধারণত ১ হেক্টরের কম) কৃষিকাজ করে
জীবিকা নির্বাহ করেন।
8. ঘাটতি ব্যয় কি ?
ঘাটতি ব্যয়
হলো সরকারের আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হলে যে অতিরিক্ত ব্যয় ঋণ বা অন্যান্য মাধ্যমে
পূরণ করা হয়।
9. বৈদেশিক বিনিয়োগ কি ?
বৈদেশিক
বিনিয়োগ হলো বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অন্য দেশে পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা
বা উৎপাদন কার্য পরিচালনা করা।
10. উন্নয়নশীল দেশ কাকে বলে ?
উন্নয়নশীল
দেশ হলো সেই দেশ যেগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আয়, শিক্ষা
ও অবকাঠামো উন্নতির পথে থাকলেও এখনো সম্পূর্ণ উন্নত হয়নি।
11. দারিদ্রের দুষ্ট চক্রের প্রবক্তা কে ?
দারিদ্র্যের
দুষ্ট চক্রের প্রবক্তা অর্থনীতিবিদ রাগনার নার্কসে (Ragnar Nurkse)।
12.
ব্যাংকিং কী ?
ব্যাংকিং হলো
অর্থ গ্রহণ, সঞ্চয় রাখা, ঋণ প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন
সম্পাদনের কাজ।
13. লেনদেন ভারসাম্য কি ?
লেনদেন
ভারসাম্য হলো একটি দেশের নির্দিষ্ট সময়ে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের মোট
যোগফলের শোধনীয় অবস্থা।
14. ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা কাকে বলে ?
ভূমিস্বত্ব
ব্যবস্থা হলো ভূমির মালিকানা, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম ও কাঠামো।
15. বানিজ্য ভারসাম্য কি ?
বাণিজ্য
ভারসাম্য হলো একটি দেশের নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য রপ্তানি ও আমদানি থেকে প্রাপ্ত মোট
আয় ও ব্যয়ের সমতা।
16. কুটির শিল্প কি ?
কুটির শিল্প
হলো পরিবার বা ছোট গোষ্ঠী ভিত্তিক, হাতের শ্রমে পরিচালিত ও সীমিত
পুঁজিতে উৎপাদিত ক্ষুদ্র শিল্প।
17. অর্থের সংজ্ঞা দাও ?
অর্থ হলো এমন
একটি মাধ্যম যা পণ্য ও সেবা কেনাবেচা, মূল্য সংরক্ষণ এবং ঋণ পরিশোধের কাজে
ব্যবহৃত হয়।
18. রপ্তানি বাণিজ্য কি ?
রপ্তানি
বাণিজ্য হলো কোনো দেশের পণ্য বা সেবা বিদেশে বিক্রির মাধ্যমে আয় অর্জনের বাণিজ্য।
19. অর্থনৈতিক প্রবিদ্ধি কি ?
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি হলো দেশের উৎপাদন, আয় ও জীবনের মান বৃদ্ধির ধারাবাহিক বৃদ্ধি।
20. মানব সম্পদ উন্নয়ন কি ?
মানব সম্পদ
উন্নয়ন হলো মানুষের দক্ষতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে
জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
21. অর্থনৈতিক অবকাঠামো কি ?
অর্থনৈতিক
অবকাঠামো হলো উৎপাদন, বণ্টন ও বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় নৌপথ, সড়ক,
বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অন্যান্য মৌলিক
সুবিধা।
22. সামাজিক অবকাঠামো কি ?
সামাজিক
অবকাঠামো হলো জনগণের জীবনমান ও কল্যাণ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য,
পানীয় জল, আবাসন ও নিরাপত্তা
সুবিধাসমূহ।
23. বিসেশায়িত ব্যাংক কি ?
বৈশেষায়িত
ব্যাংক হলো বিশেষ উদ্দেশ্যে যেমন কৃষি, শিল্প বা রপ্তানি খাতে ঋণ প্রদানের
জন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক।
24. শিল্পনিতি কি ?
শিল্পনীতি
হলো দেশের শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি ও
পরিকল্পনা।
25. মুদ্রাবাজার কাকে বলে ?
মুদ্রাবাজার
হলো যেখানে বিভিন্ন ধরনের মুদ্রার লেনদেন এবং বিনিময় কার্য সম্পন্ন হয়।
26. মাথাপিছু আয় কাকে বলে ?
মাথাপিছু আয়
হলো কোনো দেশের মোট আয়কে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে যে পরিমাণ পাওয়া
যায়।
27. অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাকে বলে ?
অর্থনৈতিক
উন্নয়ন হলো দেশের আয়, উৎপাদন, জীবনের মান এবং সামাজিক সুযোগ সুবিধার
দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি।
28. পুরনরুপ লেখ – GDP , V.G.F , WHO,
EPZ, BRAC, SDG
খ বিভাগ প্রশ্ন উত্তরঃ
1.
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবিদ্ধির মধ্যে পার্থক্য লিখ ?
অর্থনৈতিক
উন্নয়ন (Economic
Development) এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) ধারণা দুটি ঘনিষ্ঠ হলেও এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
সহজ
কথায়,
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলো অর্থনীতির পরিমাণগত বৃদ্ধি, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো অর্থনীতির গুণগত ও সার্বিক পরিবর্তন।
নিম্নে
এদের প্রধান পার্থক্যগুলো একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
|
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি |
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) |
অর্থনৈতিক উন্নয়ন (Economic
Development) |
|
সংজ্ঞা |
একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার (GDP বা GNP) পরিমাণগত বৃদ্ধিকে বোঝায়। |
প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা,
স্বাস্থ্য, এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর সার্বিক ও গুণগত পরিবর্তনকে বোঝায়। |
|
প্রকৃতি |
এটি একটি পরিমাণগত ধারণা। এটি
কেবল অর্থনৈতিক চলকগুলোর বৃদ্ধি পরিমাপ করে। |
এটি একটি গুণগত ও পরিমাণগত উভয়
প্রকারের ধারণা। এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে
অন্তর্ভুক্ত করে। |
|
পরিমাপক |
প্রধানত মোট দেশজ উৎপাদন (GDP), মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) এবং মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধির হার দ্বারা
পরিমাপ করা হয়। |
প্রধানত মানব উন্নয়ন সূচক (HDI), সাক্ষরতার
হার, গড় আয়ু, দারিদ্র্য হ্রাস
এবং বৈষম্য পরিমাপক সূচক দ্বারা পরিমাপ করা হয়। |
|
ক্ষেত্র |
তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ
ধারণা, যা শুধু আয়ের বৃদ্ধির উপর জোর দেয়। |
এটি একটি বিস্তৃত বা ব্যাপক ধারণা, যা
কেবল আয় বৃদ্ধি নয়, বরং সামাজিক কল্যাণকেও অন্তর্ভুক্ত
করে। |
|
লক্ষ্য |
জাতীয় আয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা। |
জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, বৈষম্য,
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব হ্রাস করা। |
|
উদাহরণ |
কেবল একটি খাতের (যেমন: তেল রপ্তানি) আয়
বৃদ্ধি হওয়া। |
আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষার প্রসার, উন্নত
স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নারী-পুরুষের
বৈষম্য হ্রাস পাওয়া। |
|
অপরিহার্যতা |
প্রবৃদ্ধি ঘটলেও উন্নয়ন নাও ঘটতে পারে (যেমন:
ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়ে গেলে)। |
অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে হলে প্রবৃদ্ধি অপরিহার্য, তবে উন্নয়নের জন্য
প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। |
সংক্ষেপে সম্পর্ক
অর্থনৈতিক
উন্নয়নকে একটি সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা যেতে পারে:
অর্থনৈতিক উন্নয়ন = অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি + অর্থনীতির গুণগত পরিবর্তন
অর্থাৎ, কেবলমাত্র
আয় বাড়লেই উন্নয়ন হয় না, বরং সেই আয়ের সুফল সমাজের সব
স্তরে পৌঁছানো এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া আবশ্যক।
2. দারিদ্রের দুষ্ট চক্র বলতে কি বুঝ ?
দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র (Vicious Circle of Poverty) হলো এমন একটি আত্ম-বলবর্ধক প্রক্রিয়া (Self-reinforcing mechanism),
যেখানে একটি দেশের দরিদ্রতা নিজেই সেই দরিদ্রতাকে আরও বাড়িয়ে
তোলে এবং দেশের অর্থনীতিকে নিম্ন স্তরে আটকে রাখে।
এই ধারণাটি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক র্যাগনার নার্কসে (Ragnar Nurkse) তাঁর 'Problems
of Capital Formation in Underdeveloped Countries' বইতে প্রথম
উপস্থাপন করেন।
দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্রের সংজ্ঞা
দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এমন একগুচ্ছ কারণ
ও প্রভাব, যা একটি দেশকে (বা ব্যক্তিকে) দরিদ্র থাকার জন্য বাধ্য করে। এই চক্রে,
দরিদ্রতার কারণগুলি আবার দরিদ্রতার ফল হিসেবে
কাজ করে, ফলে চক্রটি চলতেই থাকে।
নার্কসের মতে, এই চক্রটি মূলত চাহিদার দিক (Demand Side) এবং যোগানের দিক (Supply Side) এই দুটি দিক থেকে কাজ করে।
১. চাহিদার দিক (Demand Side)
এই দিকটি বাজারের আকার ছোট হওয়ার কারণে সৃষ্টি
হয়:
নিম্ন আয় স্বল্প চাহিদা (কম ক্রয় ক্ষমতা) স্বল্প বিনিয়োগের উৎসাহ
(কারণ উৎপাদিত পণ্য বিক্রি হবে না) স্বল্প উৎপাদন আবার নিম্ন আয়।
নিম্ন আয় স্বল্প চাহিদা বিনিয়োগের অভাব উৎপাদন
স্বল্পতা
পুনরায় নিম্ন আয়
২. যোগানের দিক (Supply Side)
এই দিকটি পুঁজি গঠনের স্বল্পতার কারণে সৃষ্টি হয়:
নিম্ন আয় স্বল্প সঞ্চয় (কারণ আয়ের বেশি অংশ ভোগে ব্যয় হয়) স্বল্প পুঁজি গঠন স্বল্প উৎপাদনশীলতা আবার নিম্ন আয়।
নিম্ন আয় স্বল্প সঞ্চয় স্বল্প বিনিয়োগ/পুঁজি গঠন উৎপাদনশীলতার অভাব পুনরায়
নিম্ন আয়
দুষ্ট
চক্রের মূল বৈশিষ্ট্য
·
স্বল্প মাথাপিছু আয়: এটি চক্রের শুরু ও শেষ।
·
স্বল্প সঞ্চয় ও বিনিয়োগ: পুঁজি গঠনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না।
·
কম উৎপাদনশীলতা: অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির অভাবের কারণে শ্রমিকদের
দক্ষতা কম।
·
অশিক্ষিত ও অদক্ষ মানব সম্পদ: প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব।
চক্রটি ভাঙার উপায়
এই চক্র থেকে মুক্তি পেতে হলে রাষ্ট্রকে এক বা একাধিক জায়গায় বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ (Big Push) করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান হলো:
1.
পুঁজি গঠন বাড়ানো: সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করা।
2.
মানব সম্পদের উন্নয়ন: স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করা।
3.
কৃষি ও শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার: উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
এই
ধারণাটি অর্থনীতিতে দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
3. কুটির শিল্পের সংজ্ঞা দাও ?
কুটির শিল্পের সংজ্ঞা
কুটির শিল্প (Cottage Industry) হলো একটি ক্ষুদ্রায়তন শিল্প প্রতিষ্ঠান, যা
মূলত পারিবারিক শ্রম এবং স্বল্প মূলধন ব্যবহার করে
কোনো নির্দিষ্ট বাসগৃহ বা ছোট ঘরে পরিচালিত হয়।
১. সহজ সংজ্ঞা
যে শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিবারের সদস্যদের সহায়তায়
পরিচালিত হয়, যেখানে উৎপাদিত পণ্যগুলি সাধারণত হাতের তৈরি বা স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয় এবং
যার মূলধন ও জনবল খুবই সীমিত, তাকেই কুটির শিল্প বলা হয়।
২. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে (বিসিক অনুযায়ী)
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (BSCIC - বিসিক)
কুটির শিল্পের একটি আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা দিয়েছে, যা সময়ের
সাথে সাথে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। সাধারণভাবে, বিসিকের
মতে:
"যে শিল্প কারখানা একই পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচালিত এবং পারিবারিক কারিগর খণ্ডকালীন
বা পূর্ণ সময়ের জন্য উৎপাদন কার্যে নিয়োজিত থাকেন, এবং
যে শিল্পে শক্তিচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হলে ১০ জনের বেশি এবং শক্তিচালিত যন্ত্র ব্যবহৃত না হলে ২০ জনের বেশি কারিগর উৎপাদন
কার্যে নিয়োজিত থাকে না, তাই কুটির শিল্প।"
সাম্প্রতিক শিল্পনীতি অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও
কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ টাকার নিচে
এবং সর্বোচ্চ জনবল ১৫ জনের অধিক নয়, সেই
শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কুটির শিল্প হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
কুটির শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য
·
পরিবার-ভিত্তিক পরিচালনা: পরিবারের সদস্যরা প্রধানত শ্রমিক হিসেবে কাজ
করেন।
·
স্থান: সাধারণত বাসগৃহ বা কুটিরের অভ্যন্তরে বা সংলগ্ন
ছোট ঘরে এর কাজ সম্পন্ন হয়।
·
মূলধন: এর জন্য স্বল্প মূলধনের প্রয়োজন হয়।
·
যন্ত্রপাতি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাতের কাজ (Handicrafts) বা খুব সাধারণ, স্বল্প ক্ষমতার যন্ত্রপাতি
ব্যবহৃত হয়।
·
উৎপাদন: স্থানীয় চাহিদা মেটানো এবং কিছু ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী পণ্য উৎপাদন।
উদাহরণ
·
তাঁত শিল্প (হাতের তাঁত)
·
মাটির কাজ বা মৃৎশিল্প
·
বাঁশ ও বেতের কাজ
·
শাঁখা-ঝিনুকের কাজ
·
নকশী কাঁথা তৈরি
·
ঐতিহ্যবাহী খাদ্যদ্রব্য (যেমন: গুড়) তৈরি।
4. বাংলা অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব লিখ ?
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রা
এবং সংস্কৃতির সঙ্গে কৃষিখাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যদিও বর্তমানে
শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বাড়ছে, তবুও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির
গুরুত্ব এখনও অপরিসীম এবং এটি অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি।
বাংলা অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব
বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে কৃষিখাতের প্রধান গুরুত্বগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. খাদ্য নিরাপত্তা ও যোগান
·
খাদ্য চাহিদা পূরণ: কৃষি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির প্রধান
উৎস। ধান, গম, আলু, মাছ,
সবজি, ফলমূল ইত্যাদি উৎপাদনের মাধ্যমে
দেশীয় জনগণের খাদ্য চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে।
·
স্বয়ংসম্পূর্ণতা: বাংলাদেশ ধান (চাল), মাছ, ও সবজি উৎপাদনে
বিশ্বে এখন শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর ফলে খাদ্য আমদানির উপর নির্ভরতা
কমেছে এবং খাদ্যে স্বনির্ভরতা এসেছে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি
·
সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান খাত: দেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ (৪০% থেকে
৬০%) এখনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিখাতের সাথে যুক্ত। এটি গ্রামীণ জনসংখ্যার জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস।
·
দারিদ্র্য হ্রাস: কৃষি খাতের উন্নয়ন গ্রামীণ মানুষের আয় বৃদ্ধি করে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩. মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) অবদান
·
জিডিপিতে অংশীদারিত্ব: যদিও সময়ের সাথে সাথে জিডিপিতে কৃষির আপেক্ষিক
অংশ হ্রাস পেয়েছে (বর্তমানে প্রায় ১১-১২%), কিন্তু
এটি এখনও দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে একটি বিশাল ও স্থিতিশীল অবদান রাখে। কৃষির
ভালো ফলন সার্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখে।
৪. শিল্পের কাঁচামাল যোগান
·
শিল্পের ভিত্তি: বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের জন্য কৃষি কাঁচামাল সরবরাহ করে। যেমন:
o
পাট শিল্প (পাট)
o
চিনিকল
(আখ)
o
বস্ত্র শিল্প (তুলা)
o
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প (ফলমূল, সবজি, ধান)
o
চামড়া শিল্প (পশুপালন থেকে চামড়া)
o
চা শিল্প (চা পাতা)।
৫. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন
·
রপ্তানি আয়: কৃষি ও কৃষি-ভিত্তিক পণ্য (যেমন: পাটজাত দ্রব্য, চা,
মাছ, হিমায়িত চিংড়ি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও সবজি) বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
·
আমদানি হ্রাস: খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ফলে খাদ্য আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হ্রাস পায়, যা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য
আমদানিতে ব্যবহার করা যায়।
৬. অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি
·
চাহিদা বৃদ্ধি: কৃষকদের আয় বাড়লে তারা শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ক্রেতা হিসেবে বাজারে প্রবেশ করে। এর ফলে গ্রামীণ বাজার ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা দেশের শিল্প
ও সেবা খাতের প্রসারে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের
কৃষি অর্থনীতি-১
ভিডিওটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ অবদান
সম্পর্কে আলোচনা করে।
5. ভুমি সংস্কার ও কৃষি সংস্কারের মাঝে পার্থক্য লিখ ?
ভূমি সংস্কার (Land Reform) এবং কৃষি সংস্কার (Agricultural
Reform) ধারণা দুটি কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য হলেও এদের
মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সহজ কথায়, ভূমি সংস্কার জমির মালিকানা ও অধিকার সম্পর্কিত আইনগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে
কাজ করে, আর কৃষি সংস্কার জমিতে চাষাবাদ পদ্ধতি, প্রযুক্তি ও
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করে।
নিম্নে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা
হলো:
|
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি |
ভূমি সংস্কার (Land
Reform) |
কৃষি সংস্কার (Agricultural
Reform) |
|
মূল
ফোকাস |
জমির
মালিকানা (Ownership), বণ্টন (Distribution),
এবং অধিকার (Rights) সম্পর্কিত প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত পরিবর্তন। |
কৃষি
উৎপাদন পদ্ধতি (Farming Method), প্রযুক্তি, এবং উৎপাদনের দক্ষতা (Productivity)
সম্পর্কিত পরিবর্তন। |
|
প্রকৃতি |
এটি মূলত একটি প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ। |
এটি মূলত একটি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। |
|
উদ্দেশ্য |
সামাজিক
সমতা প্রতিষ্ঠা করা,
ভূস্বামীদের শোষণ বন্ধ করা, জমির অসম
বণ্টন দূর করা, এবং প্রকৃত চাষীর হাতে জমি তুলে দেওয়া। |
কৃষি
উৎপাদন
ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
করা, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা, এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। |
|
প্রধান
উপাদান |
* জমির
মালিকানার
ঊর্ধ্বসীমা (Land Ceiling) নির্ধারণ। * উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীনদের মধ্যে পুনর্বণ্টন। * বর্গাদার বা ভাগচাষীর আইনগত
নিরাপত্তা
প্রদান। * মধ্যস্বত্বভোগী উচ্ছেদ। * খাস জমি বিতরণ। |
* উচ্চ
ফলনশীল বীজ (HYV) ও
প্রযুক্তির ব্যবহার। * সেচ
ব্যবস্থার
উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ। * কৃষি ঋণ ও ভর্তুকির ব্যবস্থা। * বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণ সুবিধার উন্নতি। * কৃষি গবেষণা ও
সম্প্রসারণ। |
|
ক্ষেত্র |
জমির
অধিকার
এবং শ্রেণিগত বৈষম্য দূরীকরণ। |
উৎপাদন
পদ্ধতি,
উপকরণ এবং উৎপাদনের হার উন্নতকরণ। |
|
তাৎক্ষণিক
ফল |
জমির মালিকানার পুনর্গঠন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, এবং
কৃষকদের
শক্তির পরিবর্তন। |
ফসলের
ফলন বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি। |
|
সম্পর্ক |
কৃষি
সংস্কারের জন্য ভূমি সংস্কার প্রায়শই পূর্বশর্ত হিসেবে
কাজ করে, কারণ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উৎসাহ জমির মালিকানা ও অধিকারের উপর নির্ভর করে। |
ভূমি সংস্কার সফল হলে কৃষি সংস্কারের বাস্তবায়ন সহজ ও কার্যকর হয়। |
সারসংক্ষেপ
ভূমি সংস্কার হলো কৃষিখাতের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করার
প্রথম ধাপ। এটি কে জমি চাষ করবে এবং কে জমির সুবিধা ভোগ করবে তা
নির্ধারণ করে। অন্যদিকে, কৃষি সংস্কার হলো জমিতে চাষাবাদের পদ্ধতি উন্নত করার উদ্যোগ। একটি কার্যকর কৃষি ব্যবস্থার জন্য উভয় সংস্কারই সমন্বিতভাবে প্রয়োজন।
6. অয়েজ আনারস ইস্কিম কি ? এর গুরুত্ব লিখ ?
আপনার উল্লিখিত 'অয়েজ আনারস ইস্কিম' কথাটি
সম্ভবত ওয়েজ আর্নার্স স্কিম (Wage Earners' Scheme - WES)
অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (Wage Earners' Welfare Board) সংক্রান্ত।
বাংলায় উচ্চারণের পার্থক্যের কারণে এটি 'অয়েজ আনারস'
হিসেবে লেখা হতে পারে।
মূলত এটি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের অর্জিত
বৈদেশিক মুদ্রা (Remittance) দেশে সহজে প্রেরণের সাথে এবং তাদের কল্যাণের
সাথে সম্পর্কিত।
১. ওয়েজ আর্নার্স
স্কিম (WES) কি?
ওয়েজ আর্নার্স
স্কিম (WES) হলো ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বিশেষ অর্থনৈতিক
ব্যবস্থা।
·
উদ্দেশ্য: বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্জিত আয় সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে (যেমন: ব্যাংক) দেশে পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া।
·
কার্যপদ্ধতি: এই স্কিমের অধীনে, প্রবাসীরা তাদের পাঠানো অর্থ খোলাবাজারের কাছাকাছি উচ্চ বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তর করার
সুবিধা পেতেন। এটি সেই সময় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে একটি দ্বিতীয়
স্তর (Secondary Market) হিসেবে
কাজ করত।
·
তাৎপর্য: এটি নিশ্চিত করে যে প্রবাসীরা হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেলের
পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হয়, কারণ তারা
তুলনামূলকভাবে ভালো বিনিময় হার পায়। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধি
পায়।
২. ওয়েজ আর্নার্স
স্কিম (WES) এর গুরুত্ব
দেশের
অর্থনীতিতে এই স্কিমের গুরুত্ব অপরিসীম:
ক. বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস
·
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি: এটি বিদেশে কর্মরত কর্মীদের
তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে উৎসাহিত করে, ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাপকভাবে
বৃদ্ধি পায়। রেমিট্যান্স বর্তমানে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে সর্বোচ্চ বৈদেশিক
মুদ্রা উপার্জনকারী উৎস।
·
বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস: প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বিদেশি সাহায্য ও ঋণের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা
রাখে।
খ. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
·
জিডিপিতে অবদান: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)-এর একটি
বড় অংশ জুড়ে থাকে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে সচল ও স্থিতিশীল রাখে।
·
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: WES সরকারি চ্যানেলে অর্থ প্রবাহ বাড়ানোয় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়,
যা আমদানির ব্যয় মেটানো এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা
করে।
গ. দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন
·
গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব: প্রেরিত অর্থ সরাসরি গ্রামীণ
পরিবারগুলোতে পৌঁছায়,
যা তাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করে, দারিদ্র্য হ্রাস করে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাহায্য করে।
·
বিনিয়োগ ও সঞ্চয়: এই অর্থ দিয়ে পরিবারগুলো কৃষি, ছোট ব্যবসা বা অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করে, যা সঞ্চয় ও পুঁজি
গঠনে সহায়তা করে।
ঘ. শ্রমিক কল্যাণ (ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড)
ওয়েজ আর্নার্স স্কিমের পাশাপাশি ১৯৯০ সালে গঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) প্রবাসীদের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:
·
কল্যাণমূলক কার্যক্রম: এটি বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের আইনগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
·
মৃতদেহ পরিবহন: বিদেশে মৃত্যুবরণকারী কর্মীদের মৃতদেহ দেশে আনায়ন এবং
দাফন-কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
·
শিক্ষা ও বীমা: প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি এবং
বিদেশগামী কর্মীদের বীমা সুবিধা প্রাপ্তিতে সহায়তা করে।
সংক্ষেপে
ওয়েজ আর্নার্স স্কিম বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং
লক্ষ লক্ষ প্রবাসী কর্মীর পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
ক্ষেত্রে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ।
7. কেন্দ্রিও ব্যাংকে সকল ব্যাংক এর ব্যাংক অভিবাবক বলা হয় কেন ?
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে (Central Bank) সকল ব্যাংকের ব্যাংক (Bankers' Bank) এবং অভিভাবক (Guardian) বলা হয় কারণ এটি দেশের সমগ্র
ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক, পরিচালক ও সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করে।
এই
দায়িত্ব ও ভূমিকার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের প্রয়োজন এবং নিয়ন্ত্রণের
জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিভাবকত্বের প্রধান কারণসমূহ
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো পালনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলোর অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে:
১. 💰 শেষ আশ্রয়স্থল বা চূড়ান্ত ঋণদাতা (Lender of
Last Resort)
·
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে
এবং অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত
ঋণদাতা হিসেবে তাদের অর্থ সরবরাহ করে।
·
এই ভূমিকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ও স্থিতিশীলতা বজায়
রাখতে সাহায্য করে এবং গ্রাহকদের আতঙ্কিত হয়ে একযোগে টাকা তোলা (Bank Run) প্রতিরোধ
করে।
২. 🏦 ব্যাংকের ব্যাংক বা হিসাবরক্ষক
·
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের নগদ জমার একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন: CRR
- Cash Reserve Ratio) বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা
রাখতে হয়।
·
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হিসাব
রাখে এবং তাদের আন্তঃব্যাংকিং লেনদেনের নিষ্পত্তি (Clearing) করে।
অর্থাৎ, ব্যাংকগুলোর মধ্যেকার পাওনা মেটানোর কাজ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
৩. ⚖️ নিয়ন্ত্রক ও পরিচালক (Regulator
and Supervisor)
·
দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
·
নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য লাইসেন্স প্রদান, ব্যাংকের
কার্যক্রম তত্ত্বাবধান (Inspection), এবং
অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকে। এটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত
করে।
৪.নীতিনির্ধারক ও পরামর্শদাতা
·
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা নীতি (Monetary Policy) প্রণয়ন ও
বাস্তবায়ন করে। এই নীতির মাধ্যমে সুদের হার, ঋণের পরিমাণ
এবং অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা সব ব্যাংকের
কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
·
এটি বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ প্রদান করে।
৫. 🛡️
তারল্য বজায় রাখা (Maintaining Liquidity)
·
কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারের কার্য পরিচালনার (Open Market Operations) মাধ্যমে
বাজারে টাকার তারল্য বা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
·
যখন বাজারে অতিরিক্ত তারল্য দেখা যায়, কেন্দ্রীয়
ব্যাংক তখন সরকারি বন্ড বিক্রি করে তা শোষণ করে নেয়। যখন তারল্যের প্রয়োজন হয়,
তখন বন্ড কিনে তারল্য সরবরাহ করে। এর ফলে সকল ব্যাংক তারল্যের
সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
এই বহুমুখী ভূমিকাগুলোর কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমগ্র ব্যাংকিং
ব্যবস্থার প্রধান নিয়ন্ত্রক, রক্ষক এবং অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা
হয়।
8. বাংলাদেশের কৃষকরা ঋণ গ্রস্থ হয় কেন ?
বাংলাদেশের কৃষকরা ঋণগ্রস্ত হওয়ার পেছনে বহুবিধ
অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো
পরস্পর সম্পর্কিত এবং কৃষকদের একটি দুষ্ট চক্রে (Vicious Cycle) আটকে ফেলে।
নিম্নে
প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
কৃষকদের ঋণগ্রস্ত হওয়ার
প্রধান কারণসমূহ
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অনিশ্চয়তা
·
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: বন্যা, খরা,
ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, এবং অসময়ে বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
·
ফসলহানি: একবার ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়
এবং তারা নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার জন্য ঋণ নিতে বাধ্য হন। এই ঋণ শোধ না হতেই
আবার নতুন করে ঋণ নিতে হয়।
২. স্বল্প পুঁজি ও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অভাব
·
স্বল্প সঞ্চয়: কৃষকদের মাথাপিছু আয় কম হওয়ায় তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব কম বা
প্রায় নেই বললেই চলে।
·
সহজ ঋণের অভাব: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান
থেকে জামানতবিহীন ঋণ পাওয়া কঠিন।
·
বেসরকারি ঋণের উপর নির্ভরতা: প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের পরিবর্তে
তারা চড়া সুদের হারে মহাজন বা গ্রামীণ ঋণদাতাদের (Microcredit NGOs সহ) কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। এই ঋণের সুদের হার এত বেশি থাকে যে
শোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৩. পণ্যের ন্যায্য মূল্যের অভাব
·
মধ্যস্বত্বভোগীর শোষণ: কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। মধ্যস্বত্বভোগীরা
কম দামে ফসল কিনে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা লুটে নেয়।
·
বিক্রির সময় কম দাম: ফসল তোলার পর একসাথে বাজারে পণ্য আসায়
দাম কমে যায়। দ্রুত ঋণ শোধ বা অন্যান্য চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে কৃষকরা কম দামেও
ফসল বিক্রি করে দেন।
·
সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব: সঠিক হিমাগার বা সংরক্ষণ ব্যবস্থার
অভাবে কৃষকরা ফসল দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারেন না, ফলে দাম কমে গেলেও বিক্রি করতে
হয়।
৪. কৃষি উপকরণ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
·
উচ্চ মূল্যের বীজ ও সার: উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার, কীটনাশক
এবং সেচের পানির দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়।
·
ঋণের প্রয়োজনীয়তা: এই বর্ধিত ব্যয় মেটানোর জন্য তারা প্রায়শই ঋণের
উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
৫. পারিবারিক ও সামাজিক ব্যয়
·
অকৃষি ব্যয়: ফসল উৎপাদনের বাইরেও কৃষকদের ছেলে-মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য,
বিবাহ, এবং সামাজিক অনুষ্ঠান পালনের জন্য অর্থ
খরচ করতে হয়।
·
রোগ-শোক: পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে আকস্মিক খরচের
ধাক্কা সামলাতে না পেরে তারা ঋণ গ্রহণ করেন।
৬. অদক্ষতা ও সনাতন পদ্ধতি
·
সনাতন পদ্ধতি: অনেক কৃষক এখনও আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে
সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করেন, যার ফলে উৎপাদনশীলতা কম হয় এবং
লোকসান হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এই কারণগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের একটি চিরস্থায়ী ঋণগ্রস্ততার জালে আবদ্ধ করে।
9. বাংলাদেশের উচ্চ জন্মহারের কারন কি ?
বাংলাদেশের উচ্চ জন্মহারের কারণগুলি মূলত সামাজিক, অর্থনৈতিক,
সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষাগত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। যদিও
সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির কারণে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবুও উন্নত
দেশগুলির তুলনায় এটি এখনও বেশি।
নিম্নে
উচ্চ জন্মহারের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করা হলো:
উচ্চ জন্মহারের প্রধান কারণসমূহ
১. 🎓 শিক্ষার অভাব ও অজ্ঞতা
·
নারী শিক্ষার অভাব: বাংলাদেশে এখনও অনেক নারী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অল্পশিক্ষিত নারীরা পরিবার পরিকল্পনার সুবিধা, পদ্ধতি এবং
এর গুরুত্ব সম্পর্কে কম অবগত থাকেন।
·
সচেতনতার অভাব: পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, জন্ম নিয়ন্ত্রণ এবং ছোট পরিবারের গুরুত্ব
সম্পর্কে গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
২. 💍 সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ
·
বাল্যবিবাহ: বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার এখনও তুলনামূলকভাবে
বেশি। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে সন্তান ধারণের সময়কাল (Reproductive Period) দীর্ঘ হয়, ফলে বেশি সন্তান লাভের সম্ভাবনা
থাকে।
·
সামাজিক মর্যাদা: অনেক পরিবারে, বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজে, বেশি সন্তান থাকা সামাজিক মর্যাদা ও
নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।
·
ধর্মীয় বিশ্বাস: কিছু রক্ষণশীল ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাস জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
ব্যবহারের বিপক্ষে থাকে।
৩. 💰 অর্থনৈতিক কারণ
·
দারিদ্র্য: দরিদ্র পরিবারগুলি মনে করে যে বেশি সন্তান ভবিষ্যতে আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করবে এবং পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে
সহায়তা করবে।
·
বৃদ্ধ বয়সে নিরাপত্তা: যেহেতু বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Social Security) এখনও দুর্বল, তাই বাবা-মা মনে করেন বেশি
সন্তান থাকলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের দেখাশোনা করার লোক থাকবে।
·
কম উৎপাদনশীলতা: কৃষি ও অসংগঠিত খাতে বেশি লোকবলের প্রয়োজন হয়, তাই অনেক
পরিবার অতিরিক্ত সন্তানকে শ্রমশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
৪. 👨👩👧👦
ছেলে সন্তানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা
·
বংশরক্ষা: অনেক পরিবারে বংশরক্ষা এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে ছেলে সন্তানের প্রতি তীব্র
আকাঙ্ক্ষা থাকে।
·
যত্ন ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা: বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে
দেখাশোনা করা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্য ছেলে সন্তানের প্রয়োজন মনে
করা হয়। আকাঙ্ক্ষিত সংখ্যক ছেলে সন্তান না হওয়া পর্যন্ত পরিবারে সন্তান
জন্মদানের প্রবণতা চলতে থাকে।
৫. 🩺 চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যগত কারণ
·
শিশু মৃত্যুর হার (IMR):
যদিও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, তবুও কিছু
দরিদ্র অঞ্চলে উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার থাকার কারণে
বাবা-মায়েরা ঝুঁকি কমাতে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত হন।
·
পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির অপর্যাপ্ততা: প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের অনুপস্থিতি এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ
সামগ্রীর সহজলভ্যতা ও গুণগত মান নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে।
এই
কারণগুলোর সম্মিলিত প্রভাবে বাংলাদেশে উচ্চ জন্মহার বিদ্যমান থাকে। উচ্চ জন্মহার
একদিকে যেমন জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ায়, তেমনি অন্যদিকে দেশের সীমিত সম্পদের উপর চাপ
সৃষ্টি করে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
10. বানিজ্য ভারসাম্য ও লেনদেন ভারসাম্য এর মাঝে পার্থক্য কি ?
বাণিজ্য ভারসাম্য (Balance of Trade -
BOT) এবং লেনদেন ভারসাম্য (Balance of Payments - BOP) দুটি ধারণাই একটি দেশের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক লেনদেন
পরিমাপ করে, কিন্তু এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
রয়েছে।
সহজ কথায়, বাণিজ্য ভারসাম্য কেবল দৃশ্যমান পণ্য আমদানি-রপ্তানি নিয়ে কাজ করে, আর লেনদেন ভারসাম্য হলো দেশের সব ধরনের আন্তর্জাতিক লেনদেনের
একটি সার্বিক ও ব্যাপক হিসাব।
বাণিজ্য ভারসাম্য ও লেনদেন
ভারসাম্যের মধ্যে পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি |
বাণিজ্য ভারসাম্য (Balance of Trade -
BOT) |
লেনদেন ভারসাম্য (Balance of Payments - BOP) |
|
সংজ্ঞা |
একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের দৃশ্যমান পণ্য (Goods) বা দ্রব্যের মোট রপ্তানি মূল্য এবং মোট আমদানি মূল্যের পার্থক্য। |
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) একটি দেশের বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে সব ধরনের (পণ্য, সেবা,
মূলধন) অর্থনৈতিক লেনদেনের সামগ্রিক হিসাব। |
|
ক্ষেত্র/পরিসর |
এটি একটি সংকীর্ণ ধারণা। এটি কেবল পণ্য বা দ্রব্য লেনদেনকে অন্তর্ভুক্ত করে। |
এটি একটি ব্যাপক ধারণা। এটি পণ্য, সেবা, মূলধন,
এবং একতরফা হস্তান্তর (যেমন: রেমিট্যান্স,
অনুদান) সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। |
|
হিসাবের
উপাদান |
* পণ্য রপ্তানি (Goods Export) * পণ্য আমদানি (Goods Import) |
* চলতি হিসাব (Current Account) * মূলধন হিসাব (Capital Account) * আর্থিক হিসাব (Financial Account) |
|
ভারসাম্য |
ঘাটতি
(Deficit), উদ্বৃত্ত (Surplus) অথবা ভারসাম্যপূর্ণ (Balanced) হতে পারে। |
তত্ত্বগতভাবে, সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ (Balanced) থাকে। কারণ, হিসাবে কোনো ভুল থাকলে তা হিসাবগত ত্রুটি ও বাদ (Errors and Omissions) দিয়ে ঠিক করা হয়। |
|
সম্পর্ক |
এটি লেনদেন ভারসাম্যের একটি অংশমাত্র (চলতি
হিসাবের একটি প্রধান উপাদান)। |
এটি বাণিজ্য ভারসাম্য এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক লেনদেনকে ধারণকারী বৃহত্তর কাঠামো। |
|
গুরুত্ব |
এটি কেবল পণ্য বাণিজ্যের অবস্থা প্রকাশ করে। |
এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থান, আর্থিক
লেনদেন, এবং আন্তর্জাতিক দেনা-পাওনার চিত্র তুলে ধরে। |
মূল পার্থক্য সংক্ষেপে
1.
Scope
(ব্যাপ্তি):
BOT = পণ্য রপ্তানি - পণ্য আমদানি
BOP = চলতি হিসাব + মূলধন হিসাব + আর্থিক হিসাব
- Trade in Services (সেবা বাণিজ্য):
BOT-তে
সেবার আমদানি-রপ্তানি অন্তর্ভুক্ত হয় না, কিন্তু BOP-তে (চলতি হিসাবে) তা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- Capital Flows (মূলধন প্রবাহ):
BOT মূলধন
বা অর্থের আন্তর্জাতিক প্রবাহ (যেমন: FDI, ঋণ) গণনা করে
না, কিন্তু BOP-এর মূলধন ও
আর্থিক হিসাবে তা অন্তর্ভুক্ত হয়।
সুতরাং, বাণিজ্য
ভারসাম্য একটি দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের অসম্পূর্ণ চিত্র দেয়,
আর লেনদেন ভারসাম্য তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে
ধরে।
11. কেন্দ্রীও ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক এর মাঝে পার্থক্য কি ?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central Bank) এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক (Commercial
Bank) হলো একটি দেশের আর্থিক কাঠামোর দুটি মৌলিক স্তম্ভ, কিন্তু এদের ভূমিকা,
উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
সহজ কথায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো অর্থনীতির
নিয়ন্ত্রক ও সরকারের ব্যাংক, আর বাণিজ্যিক
ব্যাংক হলো মুনাফা অর্জনকারী ও জনগণের ব্যাংক।
নিম্নে
এদের প্রধান পার্থক্যগুলো একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি |
কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central
Bank) |
বাণিজ্যিক ব্যাংক (Commercial
Bank) |
|
মালিকানা ও উদ্দেশ্য |
সাধারণত রাষ্ট্রীয়
মালিকানাধীন হয় এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনস্বার্থ রক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায়
রাখা। |
সাধারণত ব্যক্তিগত
বা মিশ্র মালিকানাধীন হয় এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা
অর্জন করা। |
|
অবস্থান |
একটি দেশে কেবলমাত্র
একটিই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে (যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংক)। |
একটি দেশে অনেকগুলি বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকে। |
|
মুদ্রা ইস্যু |
দেশের একমাত্র
কর্তৃপক্ষ
হিসেবে নোট ও মুদ্রা (কাগজের টাকা) ইস্যু করার অধিকার রাখে। |
মুদ্রা ইস্যু করার কোনো
অধিকার নেই। তারা কেবল চেক ও ড্রাফট
ইস্যু করতে পারে। |
|
গ্রাহক |
এটি সাধারণত জনসাধারণের
সাথে সরাসরি লেনদেন করে না। এর গ্রাহক হলো সরকার এবং
অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক। |
এটি জনসাধারণ, ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সেবা প্রদান করে। |
|
জমাকার্য |
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক
রিজার্ভ (CRR) জমা
রাখে। |
জনগণের কাছ থেকে আমানত (Deposit) গ্রহণ
করে। |
|
ঋণদান |
এটি হলো শেষ
আশ্রয়স্থল বা চূড়ান্ত ঋণদাতা (Lender of Last Resort)। এটি
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়। |
এটি জনসাধারণ
এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন প্রয়োজনে ঋণ দেয়। |
|
নীতিগত ভূমিকা |
মুদ্রা নীতি (Monetary
Policy) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। |
মুদ্রা নীতি মেনে চলে এবং
এর বাস্তবায়নে
সাহায্য
করে। |
|
নামকরণ |
এটি সরকারের
ব্যাংক,
ব্যাংকের ব্যাংক,
এবং অভিভাবক নামে
পরিচিত। |
এটি মুনাফা
অর্জনকারী ব্যাংক এবং প্রথম স্তরের ব্যাংক নামে
পরিচিত। |
সারসংক্ষেপ
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি ও মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করে, যখন
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সমাজের বিভিন্ন স্তরে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয় এবং কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে।
12. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাঝে পার্থক্য কি ?
ক্ষুদ্র শিল্প (Small Industry) এবং কুটির শিল্প (Cottage
Industry) উভয়ই বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষুদ্র শিল্প খাতের অংশ
হলেও, এদের মধ্যে পরিচালনা, মূলধন, জনবল ও
উদ্দেশ্যগত দিক থেকে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সহজ কথায়, কুটির শিল্প হলো ক্ষুদ্র শিল্প অপেক্ষা আরও ক্ষুদ্র, পরিবার-ভিত্তিক এবং গৃহ-নির্ভর একটি রূপ।
নিম্নে
প্রধান পার্থক্যগুলো একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
ক্ষুদ্র শিল্প ও কুটির শিল্পের মধ্যে পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি |
কুটির শিল্প (Cottage
Industry) |
ক্ষুদ্র শিল্প (Small
Industry) |
|
সংজ্ঞা |
যে শিল্প পরিবারের
সদস্যদের সহায়তায় পরিচালিত হয় এবং বাসগৃহের
অভ্যন্তরে বা সংলগ্ন স্থানে সীমিত মূলধনে উৎপাদিত হয়। |
যে শিল্প কারখানায় নির্দিষ্ট
সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে এবং যার স্থায়ী সম্পদের
মূল্য (জমি ও ভবন বাদে) একটি নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে না। |
|
পরিচালনার স্থান |
সাধারণত বাসগৃহ, কুটির বা
পরিবারের জায়গায় পরিচালিত হয়। |
সাধারণত আলাদা
কারখানা বা কর্মশালায় (Factory) পরিচালিত হয়। |
|
জনবল |
সাধারণত পারিবারিক
সদস্যরাই
প্রধান শ্রমিক এবং মোট শ্রমিক সংখ্যা ১৫ থেকে
২০ জনের বেশি নয়। |
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত
একটি নির্দিষ্ট
সংখ্যক শ্রমিক
(সাধারণত ২৫ থেকে ৯৯ জন) নিয়োজিত থাকে। |
|
মূলধন (স্থায়ী সম্পদ) |
স্থায়ী সম্পদের মূল্য (জমি ও ভবন বাদে) সাধারণত ১০ লক্ষ টাকার নিচে থাকে (শিল্পনীতি, ২০১০ অনুযায়ী)। |
স্থায়ী সম্পদের মূল্য (জমি ও ভবন বাদে) সাধারণত ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। |
|
যন্ত্রপাতি |
সাধারণত হাতের
তৈরি সরঞ্জাম (Hand tools) বা সাধারণ, স্বল্প ক্ষমতার যন্ত্রপাতি
ব্যবহৃত হয়। |
আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎচালিত
সরঞ্জাম এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। |
|
বিক্রয় ও বাজার |
সাধারণত স্থানীয়
বাজার বা সীমিত এলাকার চাহিদা মেটানোর জন্য উৎপাদন করা হয়। |
বৃহত্তর অভ্যন্তরীণ
বাজার এবং কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য
রপ্তানি করা হয়। |
|
আইনগত ভিত্তি |
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির
শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) দ্বারা পরিচালিত। |
শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা ও আইনের আওতায় পরিচালিত। |
|
উদাহরণ |
নকশী কাঁথা, বাঁশ-বেতের কাজ, মাটির পাত্র, হাতে
বোনা তাঁত। |
ছোট গার্মেন্টস কারখানা, বেকারি, ক্ষুদ্র
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল কারখানা। |
সারসংক্ষেপ
কুটির শিল্প হলো একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, ঘরোয়া এবং
শ্রমঘন প্রতিষ্ঠান, যেখানে উৎপাদনের মূল ভিত্তি হলো পারিবারিক
শ্রম। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র শিল্প হলো আরও সুসংগঠিত, কিছুটা বৃহৎ
আকারে পরিচালিত এবং মুনাফা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান,
যা আনুষ্ঠানিক কারখানায় বাইরের শ্রমিকদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
13. বৈদেশিক মূলধন ও বৈদেশিক সাহায্য এর মাঝে পার্থক্য কি ?
বৈদেশিক মূলধন (Foreign Capital) এবং বৈদেশিক সাহায্য (Foreign Aid) উভয়ই একটি
দেশের অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে আসা অর্থপ্রবাহকে নির্দেশ করে, কিন্তু এদের মধ্যে উদ্দেশ্য, প্রকৃতি ও শর্তাবলী অনুযায়ী মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
সহজ কথায়, বৈদেশিক মূলধন হলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আসা অর্থ, যা সাধারণত ফেরতযোগ্য এবং মুনাফাভিত্তিক, অন্যদিকে বৈদেশিক সাহায্য হলো মানবিক বা উন্নয়নের
উদ্দেশ্যে আসা অর্থ, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অফেরতযোগ্য বা শর্তহীন।
নিম্নে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো একটি
সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
বৈদেশিক মূলধন ও বৈদেশিক
সাহায্যের পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি |
বৈদেশিক মূলধন (Foreign Capital) |
বৈদেশিক সাহায্য (Foreign Aid) |
|
সংজ্ঞা |
বিদেশ থেকে আসা মুনাফা-নির্ভর বিনিয়োগ বা ঋণ, যা
সাধারণত নির্দিষ্ট শর্তে ফেরতযোগ্য হয়। এটি ব্যক্তিগত বা
প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। |
মানবিক, অর্থনৈতিক বা সামরিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশী
সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অনুদান, ঋণ বা কারিগরি সহায়তা, যা সাধারণত নরম শর্তে দেওয়া হয়। |
|
প্রকৃতি
ও উদ্দেশ্য |
বাণিজ্যিক
ও মুনাফা-ভিত্তিক (Profit-oriented)। এর মূল উদ্দেশ্য হলো
বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভ করা। |
মানবিক
ও উন্নয়ন-ভিত্তিক (Development-oriented)। এর মূল উদ্দেশ্য হলো
গ্রহীতা দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও
সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা। |
|
ফেরতযোগ্যতা |
অবশ্যই
ফেরত দিতে হয় (যদি ঋণ হয়) অথবা বিনিয়োগকারীকে মুনাফা আকারে লভ্যাংশ দিতে হয়। |
সাধারণত অনুদান (Grant) হলে ফেরত দিতে হয় না। ঋণ হলেও সুদের হার ও
পরিশোধের সময়কাল খুব সহজ থাকে (Soft Loan)। |
|
গঠন |
* প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) * পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) * বাণিজ্যিক ঋণ (Commercial Loans) * ইউরো বন্ড (Euro Bonds) |
* অনুদান (Grants) * নরম শর্তে ঋণ (Soft Loans) * কারিগরি সহায়তা (Technical Assistance)
* খাদ্য সহায়তা (Food Aid) |
|
শর্তাবলী |
কঠোর
শর্তাবলী থাকে, যেমন: সুদের হার, পরিশোধের
সময়সীমা, এবং জামানত। |
শর্তাবলী তুলনামূলকভাবে শিথিল থাকে। তবে অনেক
সময় প্রকল্পের শর্ত বা দাতা দেশের পণ্য কেনার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। |
|
ঝুঁকি |
দেশের অর্থনীতির জন্য বহনযোগ্যতা ঝুঁকি (Debt burden) ও মূলধন বহির্গমনের ঝুঁকি তৈরি করে। |
ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে এর উপর
নির্ভরতা বাড়লে তা অর্থনীতির জন্য খারাপ। |
উদাহরণ সংক্ষেপে
·
বৈদেশিক মূলধন: কোনো বিদেশী কোম্পানি
বাংলাদেশে একটি নতুন কারখানা স্থাপন করলে (FDI), অথবা কোনো
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে।
- বৈদেশিক সাহায্য: বিশ্বব্যাংক বা এডিবি (ADB) থেকে কোনো
অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নরম শর্তে ঋণ পেলে,
অথবা কোনো বন্ধু রাষ্ট্র থেকে অনুদান হিসেবে টিকা
বা জরুরি ত্রাণ পেলে।
14. উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রয়োজনীয় কেন ?
উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা (Economic Planning for
Development) অপরিহার্য, বিশেষ করে
উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য, কারণ এটি সীমিত সম্পদকে
কার্যকরভাবে ব্যবহার করে দেশের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে একটি সুসংগঠিত পথ সরবরাহ
করে।
নিম্নে উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কেন প্রয়োজনীয়, তার প্রধান
কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনার
প্রয়োজনীয়তা
১. 💰 সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার (Optimum
Utilization of Resources)
·
সীমিত সম্পদের মোকাবিলা: উন্নয়নশীল দেশগুলিতে মূলধন, প্রযুক্তি
এবং মানব সম্পদের মতো সম্পদ সীমিত। পরিকল্পনা এই সীমিত
সম্পদের গুরুত্ব অনুসারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এবং নিশ্চিত করে যেন
কোনো সম্পদ নষ্ট না হয় বা ভুল খাতে বিনিয়োগ না হয়।
·
অগ্রাধিকার নির্ধারণ: এটি কোন খাতে (যেমন: কৃষি, শিল্প,
শিক্ষা, স্বাস্থ্য) কতটুকু সম্পদ বরাদ্দ
করা হবে, তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।
২. 📉 বাজারের ব্যর্থতা দূরীকরণ (Addressing
Market Failure)
·
মুক্ত বাজারের সীমাবদ্ধতা: একটি সম্পূর্ণ মুক্ত বাজার অর্থনীতি
স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। বাজার অনেক সময় জনকল্যাণমূলক খাত (Public Goods) বা ভারী শিল্পে পর্যাপ্ত
বিনিয়োগ করে না।
·
পরিকল্পনার হস্তক্ষেপ: সরকার পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারের এই
ব্যর্থতাগুলো সংশোধন করতে পারে এবং সমাজিকভাবে কাম্য খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে
পারে।
৩. ⚖️ অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস (Reducing
Economic Inequality)
·
আয় ও সম্পদ বণ্টন: পরিকল্পনা দারিদ্র্য, আঞ্চলিক বৈষম্য এবং আয় ও সম্পদের অসম বণ্টন
দূর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
·
সামাজিক ন্যায়বিচার: এটি এমন নীতি নির্ধারণ করে, যা
অর্থনীতির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার
প্রতিষ্ঠা করে।
৪. 🚀 দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন (Achieving
Rapid Economic Growth)
·
বৃহৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা: দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক আকারের বিনিয়োগ (Big Push) এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। পরিকল্পনা এই সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত
করে।
·
সহায়ক খাত তৈরি: একটি খাত (যেমন: বিদ্যুৎ বা পরিবহন) অন্য খাতকে (যেমন: শিল্প)
কীভাবে সহায়তা করবে,
তা পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট করে।
৫. 🛡️
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা (Ensuring Economic Stability)
·
অর্থনৈতিক চক্র মোকাবিলা: পরিকল্পনা মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব
এবং অর্থনীতির উত্থান-পতনের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রদান
করে।
·
সংকট ব্যবস্থাপনা: এটি অর্থনীতিকে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা (যেমন: আন্তর্জাতিক তেলের দাম
বৃদ্ধি বা মন্দা) থেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করে।
৬. 🤝 বিদেশী সাহায্য ও সহযোগিতা আকর্ষণ
·
বিশ্বাসযোগ্যতা: সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিদেশি
বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা (যেমন: বিশ্বব্যাংক) এবং দাতাদের কাছে দেশের
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
·
সহযোগিতা নিশ্চিতকরণ: এটি বিদেশী সাহায্য ও ঋণ প্রাপ্তির জন্য একটি
ভিত্তি তৈরি করে।
সুতরাং, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা একটি দেশকে স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার
জন্য একটি রোডম্যাপ বা নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে।
গ বিভাগ প্রশ্ন উত্তর
1.
অর্থনৈতিক উন্নয়নয়ের পূর্ব শর্ত কি ?
নিচে অর্থনৈতিক উন্নয়নের
পূর্বশর্তগুলি
সুন্দরভাবে পয়েন্ট আকারে,
পরিষ্কারভাবে সাজিয়ে দিলাম। এগুলো ২–৩
পৃষ্ঠার উত্তরের মান বজায় রেখে লেখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত
অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে
অর্থনীতির উৎপাদন, আয়, কর্মসংস্থান, জীবনমান—সবকিছুর স্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়। একটি দেশকে উন্নত
অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এগুলোকে
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত বলা হয়।
১.
পর্যাপ্ত পুঁজি সঞ্চয় (Capital Formation)
·
শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো—সব খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন
পর্যাপ্ত মূলধন।
·
সঞ্চয়
বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ বাড়ে, আর বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন ও আয় দ্রুত বাড়ে।
·
উন্নয়নশীল
দেশে কম সঞ্চয়ের হার উন্নয়নের বড় বাধা হয়ে থাকে।
২.
উন্নত ও দক্ষ মানবসম্পদ (Human Capital Development)
·
শিক্ষিত
ও দক্ষ শ্রমশক্তি না থাকলে কোনো শিল্প বা প্রযুক্তি কার্যকরভাবে চালানো যায় না।
·
প্রযুক্তিগত
শিক্ষা, কারিগরি
প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা মানবসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।
·
স্বাস্থ্যসেবা
উন্নত হলে শ্রম শক্তি আরও সক্ষম ও কার্যকর হয়।
৩.
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার (Technological Progress)
·
উৎপাদন
প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির উন্নতি হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং খরচ কমে।
·
কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ–সবক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন
উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করে।
·
প্রযুক্তিগত
পশ্চাৎপদতা উন্নয়নকে ধীর করে দেয়।
৪.
উন্নত অবকাঠামো (Infrastructure Development)
·
রাস্তাঘাট, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি, পোর্ট, ইন্টারনেট—এসব উন্নত না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ে না।
·
দ্রুত
পরিবহন ও সাশ্রয়ী লজিস্টিক খরচ পণ্যের প্রতিযোগিতা বাড়ায়।
·
বিদেশি
বিনিয়োগ আকর্ষণে উন্নত অবকাঠামো অপরিহার্য।
৫.
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন (Political Stability & Good Governance)
·
স্থিতিশীল
রাজনৈতিক পরিবেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে।
·
দুর্নীতিমুক্ত
প্রশাসন, স্বচ্ছ
নীতি, আইনের শাসন–এগুলো
অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
·
নীতি
পরিবর্তন বা অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তায় ফেলে।
৬.
শিল্পায়ন ও উৎপাদন কাঠামোর উন্নয়ন (Industrialization)
·
শিল্পায়ন
ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব নয়।
·
আধুনিক
শিল্প উৎপাদন বাড়ায় এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে বহুমুখী করে।
·
রপ্তানিমুখী
শিল্প অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আনে।
৭.
কৃষি খাতের উন্নয়ন (Agricultural Development)
·
উন্নয়নশীল
দেশগুলোর কর্মসংস্থানের বড় অংশ কৃষিখাতে।
·
কৃষির
উৎপাদনশীলতা বাড়লে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
·
কৃষি
উদ্বৃত্ত পাওয়া গেলে শিল্পের কাঁচামাল ও বিনিয়োগের জন্য সম্পদ পাওয়া যায়।
৮.
আর্থিক খাতের উন্নয়ন (Financial System Development)
·
ব্যাংক, শেয়ারবাজার, মাইক্রোফাইন্যান্স—এসব খাত বিনিয়োগকে গতিশীল
করে।
·
সহজ
শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিল্পায়ন বাড়ে।
·
দুর্বল
আর্থিক খাত উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা।
৯.
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ (Trade Expansion)
·
রপ্তানি
বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা অর্জন হয়।
·
আমদানি-রপ্তানিতে
ভারসাম্য থাকলে অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে।
·
বিশ্ববাজারে
প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
১০.
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ (Population Management)
·
অতিরিক্ত
জনসংখ্যা অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে।
·
জনসংখ্যা
বৃদ্ধির হার কমলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান—সব
ক্ষেত্রে উন্নয়ন দ্রুত হয়।
·
সুষম
জনসংখ্যা কাঠামো শ্রমশক্তির মান বাড়ায়।
১১.
উদ্যোক্তা সৃষ্টি (Entrepreneurship Development)
·
নতুন
ব্যবসা, উদ্ভাবন
ও চাকরি সৃষ্টি উদ্যোক্তা ছাড়া অসম্ভব।
·
উদ্যোক্তার
ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ায়।
·
নারী
উদ্যোক্তা বৃদ্ধি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে।
১২.
স্থিতিশীল মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি (Stable Monetary &
Fiscal Policy)
·
মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীল
সুদের হার এবং সুষম বাজেট অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
·
অপ্রয়োজনীয়
ব্যয় কমানো ও কার্যকর করব্যবস্থা উন্নয়নকে টেকসই করে তোলে।
উপসংহার
অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনো
একক উপাদানের উপর নির্ভর করে না;
বরং বহু উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবেই একটি দেশ উন্নত অর্থনীতিতে
পরিণত হয়। পুঁজি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ,
নীতি, অবকাঠামো—এসব শর্ত পূরণ হলে উন্নয়ন দ্রুত ও স্থায়ী হয়।
আপনি চাইলে আমি এটিকে আরও বড়, বা আরও ছোট, অথবা পরীক্ষার উত্তর স্টাইলে সাজিয়ে দিতে পারি।
2. বাংলাদেশের সল্প মাথাপিছু আয় ও নিম্ন জীবনযাত্রার মানের করনীয় বর্ণনা করো ?
নিচে “বাংলাদেশের
স্বল্প মাথাপিছু আয় ও নিম্ন জীবনযাত্রার মানের করণীয়” বিষয়টি সুন্দরভাবে পয়েন্ট
আকারে, পরীক্ষার উত্তরের মত ২–৩
পৃষ্ঠার মান বজায় রেখে সাজানো হলো।
বাংলাদেশের স্বল্প মাথাপিছু আয় ও নিম্ন জীবনযাত্রার মান : করণীয়
বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়
এখনও উন্নত দেশের তুলনায় কম এবং জীবনযাত্রার মানও নানা কারণে পিছিয়ে রয়েছে—যেমন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অদক্ষ শ্রমশক্তি, পর্যাপ্ত শিল্পায়নের অভাব, দুর্বল অবকাঠামো
ইত্যাদি। এই সমস্যাগুলো দূর করতে নিচের করণীয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১.
মানবসম্পদ উন্নয়ন
·
শিক্ষাব্যবস্থার
মানোন্নয়ন করে দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি করা।
·
কারিগরি
ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ।
·
স্বাস্থ্যসেবার
উন্নয়ন, পুষ্টি
ও চিকিৎসার সহজলভ্যতা বাড়ানো।
·
নারী
শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো।
২.
শিল্পায়নের প্রসার
·
শ্রমনির্ভর
শিল্প যেমন গার্মেন্টস, চামড়া, কৃষিভিত্তিক শিল্প আরও শক্তিশালী করা।
·
নতুন
রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলা—ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ, আইটি,
স্টিল, অটোমোবাইল ইত্যাদি।
·
শিল্পাঞ্চলে
বিদ্যুৎ, গ্যাস,
পরিবহন—এসব অবকাঠামো উন্নয়ন।
·
ছোট, মাঝারি ও মাইক্রো শিল্পে
সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।
৩.
কৃষি খাতের আধুনিকীকরণ
·
আধুনিক
কৃষি যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ, সার এবং সেচ ব্যবস্থার প্রসার।
·
ফসলের
উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি।
·
কৃষিপণ্য
সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ
ও বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করা।
·
কৃষি
থেকে উদ্বৃত্ত তৈরি করে অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।
৪.
কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ
·
নতুন
উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্টার্টআপ উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া।
·
গ্রামীণ
অর্থনীতিতে এমএসই (Micro and
Small Enterprises) বৃদ্ধি।
·
বিদেশে
কর্মসংস্থানের বাজার সম্প্রসারণ এবং কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো।
·
সরকারি
ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি।
৫.
দারিদ্র্য হ্রাস কর্মসূচির জোরদার করা
·
সামাজিক
নিরাপত্তা কর্মসূচি যেমন—বৃদ্ধভাতা, ভিজিএফ, কর্মসংস্থান
প্রকল্প আরও কার্যকর করা।
·
হতদরিদ্র
জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
·
গ্রামীণ
উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি করা।
৬.
অবকাঠামো উন্নয়ন
·
রাস্তাঘাট, সেতু, রেল, পোর্ট উন্নত করে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা।
·
নিরবচ্ছিন্ন
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
·
ডিজিটাল
অবকাঠামো শক্তিশালী করে আইটি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি।
·
শহর
ও গ্রামে সমান অবকাঠামো উন্নয়ন করে অঞ্চলগত বৈষম্য কমানো।
৭.
আর্থিক খাতের শক্তিশালীকরণ
·
সুদহার
স্থিতিশীল রাখা এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।
·
ব্যাংকিং
সেক্টরের দুর্নীতি ও অনিয়ম কমানো।
·
ক্ষুদ্রঋণ
কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের আয় বাড়ানো।
·
সঞ্চয়
বৃদ্ধিতে উৎসাহমূলক নীতি গ্রহণ।
৮.
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ
·
পরিবার
পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার করা।
·
নিম্নআয়ের
জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।
·
স্বাস্থ্য
ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যাতে জনসংখ্যা অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়।
৯.
সুশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
·
দুর্নীতি
হ্রাস এবং স্বচ্ছ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
·
ব্যবসায়িক
পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা।
·
আমলাতান্ত্রিক
জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন।
১০.
রপ্তানি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ
·
নতুন
বাজার সন্ধান এবং রপ্তানিপণ্য বৈচিত্র্যকরণ।
·
বৈদেশিক
বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণে সুবিধাজনক নীতি গ্রহণ।
·
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াতে উৎপাদন ব্যয় কমানো।
১১.
তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
·
ডিজিটাল
শিক্ষা, অনলাইন
দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রসারিত করা।
·
আইটি
সেক্টরে আউটসোর্সিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কর্মসংস্থান বাড়ানো।
·
সরকারি
সেবায় ই-গভর্নেন্স চালু করে জনসেবা সহজ করা।
১২.
পরিবেশ সংরক্ষণ
·
টেকসই
উন্নয়নের জন্য বন, পানি, মাটি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা।
·
জলবায়ু
পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা—বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন
রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
·
পরিবেশবান্ধব
প্রযুক্তি ও শিল্প স্থাপন উৎসাহিত করা।
উপসংহার
বাংলাদেশের স্বল্প
মাথাপিছু আয় ও নিম্ন জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্পায়ন, সুশাসন, অবকাঠামো,
রপ্তানি বৃদ্ধি—সব মিলিয়েই একটি টেকসই ও
উন্নত অর্থনীতি গড়ে ওঠে। এসব করণীয় বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নত
জীবনমান ও উচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে।
3. বাংলাদেশের অরথনিতিক উন্নয়য়ের আর্থসামাজিক অবকাঠামোর গুরুত্ব বর্ণনা করো ?
নিচে “বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর্থ–সামাজিক অবকাঠামোর গুরুত্ব” খুব সুন্দরভাবে পয়েন্ট আকারে, পরীক্ষার উপযোগী ২–৩
পৃষ্ঠার মতো বিস্তৃত উত্তরে সাজিয়ে দিলাম।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর্থ–সামাজিক অবকাঠামোর গুরুত্ব
অর্থনৈতিক উন্নয়ন
টেকসইভাবে অর্জন করতে হলে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি বা শিল্পায়নই যথেষ্ট নয়—বরং প্রয়োজন শক্তিশালী আর্থিক অবকাঠামো এবং সমানভাবে উন্নত সামাজিক অবকাঠামো। এই দুই ধরনের অবকাঠামো অর্থনীতির
ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং জাতীয় উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়ায়।
১. আর্থিক অবকাঠামোর গুরুত্ব
১.১ পুঁজিগঠন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
·
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান,
শেয়ারবাজার শক্তিশালী হলে সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়।
·
সঞ্চিত
অর্থ বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়ে শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
·
উন্নত
আর্থিক খাত বড় প্রকল্প, অবকাঠামো ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সহজে বিনিয়োগ সহায়তা দিতে পারে।
১.২ ব্যবসা ও শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করা
·
ঋণ
সুবিধা, ট্রেড
ফাইন্যান্স, এলসি, ইলেকট্রনিক
পেমেন্ট—এসব সুবিধা ব্যবসা পরিচালনা সহজ করে।
·
ছোট
ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা শিল্পকে বহুমুখী করে তোলে।
১.৩ রপ্তানি বাণিজ্য প্রসার
·
বৈদেশিক
মুদ্রা লেনদেন, রপ্তানি ক্রেডিট গ্যারান্টি, বাণিজ্য সহায়তা
সেবা রপ্তানি বাড়ায়।
·
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের ঝুঁকি কমাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১.৪ রাজস্ব আদায় ও সরকারী ব্যয় পরিচালনা
·
উন্নত
আর্থিক ব্যবস্থা কর আদায় এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে।
·
সরকারি
উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সরবরাহ নিয়মিত ও কার্যকর হয়।
১.৫ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
·
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের সুদহার নীতি, অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
·
মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণ হলে জীবনযাত্রা মান উন্নত হয়।
২. সামাজিক অবকাঠামোর গুরুত্ব
সামাজিক অবকাঠামো বলতে
শিক্ষা, স্বাস্থ্য,
যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, পানি, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ—এসব মানব উন্নয়ন বিষয়ক সেবাকে বোঝানো হয়। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:
২.১
মানবসম্পদ উন্নয়ন
·
শিক্ষাব্যবস্থা
উন্নত হলে দক্ষ, উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবনক্ষম জনশক্তি তৈরি হয়।
·
কারিগরি
শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করে।
·
দক্ষ
শ্রমশক্তি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়,
বৈদেশিক মুদ্রা বেড়ে যায়।
২.২
স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি
·
সুস্থ
জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
·
রোগব্যাধির
কারণে উৎপাদনহানি কমে, জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
·
মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু কমায় এবং গড়
আয়ু বৃদ্ধি করে।
২.৩
সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য হ্রাস
·
সামাজিক
নিরাপত্তা কর্মসূচি (ভাতা, খাদ্য সহায়তা, চাকরি কর্মসূচি) প্রান্তিক
জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে।
·
দারিদ্র্য
কমলে ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হয়।
২.৪
পরিবহন ও যোগাযোগ উন্নয়ন
·
রাস্তা, সেতু, রেলপথ, নদীপথ—এসব
উন্নত হলে পণ্য পরিবহন সহজ ও সস্তা হয়।
·
গ্রাম–শহর সংযোগ বাড়ায় উৎপাদন,
বিপণন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
·
বিদেশি
বিনিয়োগকারীরা উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা পেলে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহী হয়।
২.৫
তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
·
ডিজিটাল
প্রযুক্তি ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবাকে দ্রুত
ও কার্যকর করে।
·
আইটি
খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়ে।
·
ই-গভর্নেন্স
দুর্নীতি কমায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
২.৬
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো
·
শিল্প, কৃষি এবং সেবা খাতের সব
উৎপাদন নির্ভর করে বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর।
·
পর্যাপ্ত
ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ শিল্প উৎপাদন বাড়ায় এবং ব্যবসার খরচ কমায়।
·
জ্বালানি
অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
২.৭
নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়ন
·
আধুনিক
বাসস্থান, পানি,
স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এসব জীবনমান উন্নত করে।
·
উৎপাদনশীল
জনসংখ্যা শহরমুখী হয়ে শিল্প ও ব্যবসায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
৩. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব
৩.১ শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে অপরিহার্য
বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর
শিল্পের দেশ—গার্মেন্টস,
কৃষিপণ্য, চামড়া—এসবের জন্য শক্তিশালী আর্থ–সামাজিক অবকাঠামো
অপরিহার্য।
৩.২ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা
উন্নত সড়ক, পোর্ট,
আর্থিক সেবা, স্থিতিশীল নীতি—এসব দেখেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়।
৩.৩ দারিদ্র্য কমানো
সামাজিক সেবা (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা) উন্নত হলে দারিদ্র্য দ্রুত কমে এবং মানব উন্নয়ন সূচক (HDI)
বাড়ে।
৩.৪ রপ্তানি আয় বৃদ্ধি
সফল রপ্তানির জন্য
লজিস্টিক, ব্যাংকিং,
যোগাযোগ—এসবের আধুনিকীকরণ অপরিহার্য।
উপসংহার
বাংলাদেশের টেকসই
উন্নয়নের জন্য তাই এই দুই ধরনের অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
4. একটি দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার ভিমিকা আলোচনা করো ?
নিচে “একটি
দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা” অত্যন্ত সুন্দরভাবে,
পরীক্ষার উপযোগী ২–৩
পৃষ্ঠার মানে, পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে দেওয়া হলো।
একটি দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা
শিক্ষা একটি দেশের
উন্নতির ভিত্তি। শিক্ষা শুধু ব্যক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে না; বরং একটি দেশের অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস—সব কিছুর মূল চালিকাশক্তি হলো শিক্ষা।
১. অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা
১.১
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
·
শিক্ষা
শ্রমশক্তিকে দক্ষ, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও উৎপাদনশীল করে তোলে।
·
দক্ষ
কর্মী আধুনিক প্রযুক্তি সহজে ব্যবহার করতে পারে, যা উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
·
বিদেশে
কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পায়।
১.২
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বৃদ্ধি
·
বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়।
·
উদ্ভাবনশীল
মানবসম্পদ শিল্পে নতুন যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতি তৈরি করতে পারে।
·
গবেষণা
ও উদ্ভাবন অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতামূলক করে।
১.৩
শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করা
·
কারিগরি
ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় দক্ষ শ্রমিক,
টেকনিশিয়ান ও প্রকৌশলী তৈরি হয়।
·
শিল্প
উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং নতুন শিল্প গড়ে ওঠে।
·
দেশের
উৎপাদন কাঠামো কৃষিভিত্তিক থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়।
১.৪
কর্মসংস্থান সৃষ্টি
·
শিক্ষিত
ব্যক্তি উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে,
নতুন ব্যবসা গড়ে তোলে।
·
উদ্যোক্তা
বৃদ্ধি কর্মসংস্থান বাড়ায়, বেকারত্ব কমায়।
·
শিক্ষা
শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবন বাড়ায়।
১.৫
দারিদ্র্য হ্রাস
·
শিক্ষিত
মানুষের আয় বেশি হয়, ফলে পরিবারিক দারিদ্র্য কমে।
·
শিক্ষিত
মা–বাবা তাদের
সন্তানদের ভালোভাবে লালনপালন ও শিক্ষিত করে।
·
সার্বিকভাবে
মানবসম্পদের মান বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্যের চক্র ভাঙে।
১.৬
জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি (GDP Growth)
·
দক্ষ
শ্রমশক্তি, উৎপাদন
বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির বিকাশ—সবই জাতীয় আয়ের পরিমাণ বাড়ায়।
·
শিক্ষিত
শ্রমশক্তি দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যায়।
২. সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা
২.১
সচেতন নাগরিক তৈরি
·
শিক্ষা
মানুষকে ন্যায়–অন্যায়, অধিকার–দায়িত্ব
সম্পর্কে সচেতন করে।
·
শিক্ষিত
জনগোষ্ঠী সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা সৃষ্টি করে।
২.২
জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন
·
শিক্ষিত
মানুষ স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি, প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতন থাকে।
·
ফলে
রোগব্যাধি কমে ও সামগ্রিক জীবনমান উন্নত হয়।
·
মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু কমায় এবং
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারের হার বাড়ায়।
২.৩
নারীর ক্ষমতায়ন
·
মেয়েদের
শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি সামাজিক বৈষম্য কমায়।
·
শিক্ষিত
নারী পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয়
হয়।
·
নারী
শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বাড়লে পরিবার ও সমাজ দুটিই উন্নত হয়।
২.৪
সামাজিক বৈষম্য হ্রাস
·
শিক্ষা
ধনী–গরিবের
পার্থক্য কমিয়ে সুযোগের সমতা তৈরি করে।
·
সমাজে
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থানের সমান সুযোগ সৃষ্টি করে।
২.৫
সামাজিক পরিবর্তন ও আধুনিকতা
·
শিক্ষা
সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদ, মানবিকতা বৃদ্ধি করে।
·
কুসংস্কার, লিঙ্গবৈষম্য, শিশুবিবাহ, মাদকাসক্তি—এসব সামাজিক সমস্যা কমে।
২.৬ জনসংখ্যা
নিয়ন্ত্রণ
·
শিক্ষিত
জনগোষ্ঠী পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হয়।
·
জন্মহার
কমে এবং জনসংখ্যা অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়।
২.৭
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি
·
শিক্ষিত
নাগরিক ভোটাধিকার, মতামত ও নৈতিকতার বিষয়ে সচেতন থাকে।
·
গণতন্ত্র
শক্তিশালী হয়, আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্ব
৩.১
উন্নত মানব উন্নয়ন সূচক (HDI)
·
শিক্ষা, আয় ও স্বাস্থ্য—এই তিন সূচক মিলেই HDI নির্ধারিত হয়।
·
উন্নত
শিক্ষা ব্যবস্থা একটি দেশের আন্তর্জাতিক মান বৃদ্ধি করে।
৩.২
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা
·
দক্ষ
ও শিক্ষিত কর্মী বিদেশে কাজ পেয়ে দেশের রেমিট্যান্স বাড়ায়।
·
বৈদেশিক
কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে।
উপসংহার
অতএব, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত
করতে একটি দেশের উচিত সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর
প্রশিক্ষণ এবং আজীবন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
5. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যুতের ভুমিকা আলোচনা করো ?
নিচে “বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে বিদ্যুতের ভূমিকা” বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে, পরীক্ষায় লিখলে ২–৩
পৃষ্ঠা পূর্ণ হবে এমনভাবে,
পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে দেওয়া হলো।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যুতের ভূমিকা
বিদ্যুৎ একটি দেশের
অর্থনীতির মেরুদণ্ড। শিল্প, কৃষি, পরিবহন, যোগাযোগ, ব্যবসা,
শিক্ষা—সব খাতেই বিদ্যুৎ অপরিহার্য।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিদ্যুতের উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ
উৎপাদন যত বাড়বে, তত দ্রুত শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
পাবে এবং জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
নিচে বিদ্যুতের ভূমিকা
বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো—
১. শিল্পায়ন ও উৎপাদনে বিদ্যুতের ভূমিকা
১.১ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি
·
গার্মেন্টস, চামড়া, স্টিল, সিমেন্ট, ওষুধ,
ইলেকট্রনিক্স—প্রতিটি শিল্পের মূল শক্তি
বিদ্যুৎ।
·
নিরবচ্ছিন্ন
বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে উৎপাদন খরচ কমে এবং পণ্যের মান ভালো হয়।
১.২ নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ
·
অর্থনৈতিক
অঞ্চল (EPZ), শিল্পনগরী,
বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল—এসব এলাকায়
বিনিয়োগকারীরা প্রথমেই বিদ্যুৎ সুবিধা বিবেচনা করে।
·
পর্যাপ্ত
বিদ্যুৎ থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)
বৃদ্ধি পায়।
১.৩ যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা
·
আধুনিক
মেশিন, অটোমেশান,
রোবোটিকস—এসবের জন্য নিরবচ্ছিন্ন
বিদ্যুৎ অত্যন্ত প্রয়োজন।
·
প্রযুক্তি
ব্যবহারে উৎপাদন দ্রুত বাড়ে।
২. কৃষিখাতের উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা
২.১ সেচ সুবিধা বৃদ্ধি
·
ডিপ
টিউবওয়েল, লো-লিফট
পাম্প—এসব সেচ ব্যবস্থায় বিদ্যুত ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন
অনেক বেড়েছে।
·
বিদ্যুৎচালিত
সেচে খরচ কম এবং কৃষক লাভবান হয়।
২.২ কৃষি যান্ত্রিকীকরণ
·
ধান
কাটার মেশিন, ঘাস
কাটার মেশিন, পোল্ট্রি ফার্মের হিটিং/কুলিং—সবই বিদ্যুৎ নির্ভর।
·
উৎপাদন
বাড়ে, সময়
বাঁচে এবং কৃষির আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত হয়।
২.৩ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ
·
কোল্ডস্টোরেজ, গুদাম, দুধ প্রক্রিয়াকরণ, মাছ সংরক্ষণ—এসব বিদ্যুতের মাধ্যমে সম্ভব।
·
পণ্যের
অপচয় কমে এবং কৃষকের আয় বাড়ে।
৩. সেবা খাত ও ব্যবসায়ে বিদ্যুতের ভূমিকা
৩.১ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ
·
দোকান, মার্কেট, কলকারখানা—সবক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎপাদন
ও বিক্রি বৃদ্ধি পায়।
·
আইটি, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার সেবা—সব কিছুই বিদ্যুৎ চালিত।
৩.২ ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা
·
অনলাইন
ব্যাংকিং, এটিএম,
মোবাইল ব্যাংকিং—এসব সেবা বিদ্যুৎ ছাড়া
সম্ভব নয়।
·
অর্থনীতির
লেনদেন ব্যবস্থা আধুনিক হয়।
৩.৩ পর্যটন ও হোটেল খাতে উন্নতি
·
হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল সেবা—এসব খাত বিদ্যুতের উপর নির্ভর
করে।
·
পর্যটক
বাড়ে, যা
বৈদেশিক আয়ে সহায়ক।
৪. যোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামোতে বিদ্যুতের ভূমিকা
৪.১ রেল, মেট্রোরেল ও সড়ক পরিবহণে বিদ্যুৎ ব্যবহার
·
ঢাকা
মেট্রোরেল, ই-বাস,
ই-রিক্সা—এসব আধুনিক পরিবহন
বিদ্যুৎনির্ভর।
·
এতে
পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত, পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প ব্যয় হয়।
৪.২ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো
·
ডেটা
সেন্টার, টেলিকমিউনিকেশন,
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট—এসব বিদ্যুৎ ছাড়া
চলে না।
·
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, সরকারি সেবা সবই দ্রুততর হয়।
৫. শিক্ষাখাতের উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা
৫.১ স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা
·
স্মার্ট
ক্লাসরুম, কম্পিউটার
ল্যাব, প্রজেক্টর, ই–লার্নিং—এসব বিদ্যুতের মাধ্যমে চালিত।
·
শিক্ষার্থীরা
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পায়।
৫.২ গবেষণা উন্নয়ন
·
বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষণাগারে আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনায় বিদ্যুৎ অপরিহার্য।
·
গবেষণা
দেশের বিজ্ঞান–প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়ক।
৬. সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নতিতে বিদ্যুতের ভূমিকা
৬.১ গৃহস্থালি উন্নয়ন
·
আলোকসজ্জা, ইন্টারনেট, ফ্রিজ, টিভি, পেপার
প্রসেসিং—সবই বিদ্যুৎ নির্ভর।
·
মানুষ
সময় বাঁচায়, কাজ
সহজ হয়।
৬.২ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
·
হাসপাতালে
অপারেশন থিয়েটার, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র (ECG, X-ray, MRI), ভ্যাকসিন
সংরক্ষণ—সবই বিদ্যুৎচালিত।
·
উন্নত
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সহজ হয়।
৬.৩ নারীর ক্ষমতায়ন
·
সেলাই
মেশিন, ক্ষুদ্র
শিল্প, কুটির শিল্প—বিদ্যুতের
মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।
৭. জাতীয় আয়ে (GDP) বিদ্যুতের প্রভাব
৭.১ উৎপাদন বৃদ্ধি
·
শিল্প, কৃষি, সেবা—এই তিন খাতেই বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎপাদন
বৃদ্ধি পায়।
·
উৎপাদনের
বৃদ্ধি GDP বাড়ায়।
৭.২ কর্মসংস্থান সৃষ্টি
·
বিদ্যুৎ
প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল,
সেবা খাতে অসংখ্য নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়।
·
বেকারত্ব
কমে, আয় বাড়ে।
৭.৩ দারিদ্র্য হ্রাস
·
বিদ্যুৎ
সুবিধা গ্রামাঞ্চলে পৌঁছালে আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি হয়।
·
ক্ষুদ্র
ব্যবসা, ফিশারি,
পোল্ট্রি, মিল–কারখানা
প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
উপসংহার
অতএব, একটি টেকসই ও উচ্চ আয়ের
বাংলাদেশ গড়তে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।
6. বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা লিখ ?
7. বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারন সমুহ আলোচনা করো ?
8. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ঋণের গুরুত্ব আলোচনা করো ?
9. বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকীকরণ এর সমস্যা ও সম্ভাবনা আলোচনা করো ?
10. প্রত্যাক্ষ বৈদেশিক বিনিয়ক কি ? বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রত্যাক্ষ বৈদেশিক বিনিয়ক এর ভুমিকা আলোচনা করো ?
11. বাংলাদেশে প্রত্যাক্ষ বৈদেশিক বিনিয়ক বৃদ্ধির উপায় ?
12. প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কি ? বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রনয়নের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো ?
13. বাংলাদেশের প্রেক্ষিত বৈদেশিক বিনিয়ক বৃদ্ধির উয়পায় কি ?
14. প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কি ? বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রনয়নের আলোচনা করো ?
15. বাংলাদেশের ষষ্ঠ ও পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনা মূল্যায়ন করো ?
16. দারিদ্র বিমোচন কি ?
17. বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচনে সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচী গুলো আলোচনা করো ?
18. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিকল্পের আলোচনা করো ?
19. বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গুরুত্ব আলোচনা করো ? কেন্দ্রীও ব্যাংক কে সর্বশেষ আশ্রয় স্থান বলা হয় কেন ?
20. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাণিজ্যিক ব্যাংক এর গুরুত্ব আলোচনা করো ?
21. বাংলাদেশের লেনদেন ভারসাম্যের প্রতিকবলতার কারন কি কি ?
22. বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের অসমতা / ঘাটতি দূর করার উপায় বর্ণনা করো ?
23. বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকরনের সমস্যা ও সম্ভাবনা আলোচনা করো ?
24. বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের উপায় আলোচনা করো ?
25. বাংলাদেশিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা করো ?
26. বাংলাদেশের শিল্পের অগ্রসরতার কারন ব্যাখ্যা করো ?

0 মন্তব্যসমূহ